দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে অনড় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং গত ১২ বছরে বিতর্কিত মন্ত্রীদের পদে বহাল রাখার যে ধারা মোদি অনুসরণ করেছেন, তারই ধারাবাহিকতা।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ’ আন্দোলনের হাজারো সমর্থক। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সোমবার পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে শতাধিক বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হন।
মোদির তৃতীয় মেয়াদে এটিকে তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনআন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিদিনের বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে এবং শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবি জোরালো করছে।
তবে ভারতের রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক বিতর্ক সত্ত্বেও মোদি তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা পদত্যাগের দাবিকে উপেক্ষা করেছেন।
২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস রাখার গুজবে মুসলিম ব্যক্তি মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তৎকালীন সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী মহেশ শর্মা ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি পদে বহাল ছিলেন।
২০১৬ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শিক্ষার্থী রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যার ঘটনায় তৎকালীন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও বান্দারু দত্তাত্রেয়র বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। তাদের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছিল, কিন্তু দুজনই মন্ত্রিসভায় বহাল ছিলেন।
২০২১ সালে উত্তর প্রদেশের লাখিমপুর খেরিতে কৃষক আন্দোলনের সময় গাড়িচাপায় চার কৃষক ও এক সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। টেনির পদত্যাগের দাবি উঠলেও তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।
মোদি সরকারের সময়ে জনচাপের মুখে পদত্যাগ করা মন্ত্রীর সংখ্যা খুবই কম। করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর ২০২১ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন পদত্যাগ করেন। সেটিই জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে মোদি সরকারের একমাত্র উল্লেখযোগ্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সমালোচকদের দাবি, জবাবদিহির প্রশ্নে মোদি সরকারের অবস্থান পূর্ববর্তী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের তুলনায় ভিন্ন। কারণ, কংগ্রেস আমলে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একাধিক মন্ত্রী জনচাপের মুখে পদত্যাগ বা অপসারিত হয়েছিলেন।
/অ